ভূমিকা
ঢাকা শহরে ৫ নভেম্বর এআই বিজনেস সামিটের আয়োজন করা হয়েছে, যা দেশের টেক ইকোসিস্টেমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। এই সমিটে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং সর্বোচ্চ শতাধিক স্টার্টআপ একত্রিত হবে। এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল, পণ্য ও সেবার বিকাশে নতুন দৃষ্টিকোণ এবং সহযোগিতা সুযোগের আলোচনা হবে।
ইভেন্টের মূল তথ্য
সমিটের আয়োজক হলেন বাংলাদেশ ইনোভেশন পার্ক (BIP) এবং ডেটা সায়েন্স বাংলাদেশ (DSB) যৌথভাবে। ইভেন্টের থিম নির্ধারিত হয়েছে “AI for Sustainable Business Growth” যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে এআই কীভাবে অবদান রাখতে পারে তা তুলে ধরবে। সমিটের সময়সূচি দুই দিনব্যাপী, যেখানে প্রথম দিনটি মূল বক্তৃতা এবং প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে গঠিত, আর দ্বিতীয় দিনটি স্টার্টআপ পিচ সেশন এবং নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে সমৃদ্ধ।
তারিখ ও স্থান
তারিখ: ৫-৬ নভেম্বর ২০২৬
স্থান: গুলশান এক্সপো সেন্টার, ঢাকা। এই আধুনিক কনভেনশন সেন্টারটি আন্তর্জাতিক মানের সাউন্ড ও ভিজ্যুয়াল সাপোর্ট প্রদান করে, ফলে অংশগ্রহণকারীরা একটি পেশাদার পরিবেশে জ্ঞান আদানপ্রদান করতে পারবেন।
প্রধান বক্তা ও প্যানেলিস্ট
- ডঃ রাহুল চৌধুরী – এআই রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সিঙ্গাপুর
- শ্রীমতি নূর জাহান – মাইক্রোসফট বাংলাদেশ, সিইও, এন্টারপ্রাইজ AI
- মো. তৌকিদ রেজা – বেসিক্স ইনোভেশন, প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও
- প্রফ. সুমন দে – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ
স্টার্টআপ অংশগ্রহণ
সমিটে মোট ১২০ টিরও বেশি স্টার্টআপের পিচ সেশন থাকবে, যাদের মধ্যে বেশ কিছুই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য স্টার্টআপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হল:
- AIHealth – রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরিতে এআই ব্যবহার করে হাসপাতালগুলোকে ডেটা-ড্রিভেন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
- AgriBot – কৃষি ক্ষেত্রের জন্য স্বয়ংক্রিয় ড্রোন এবং স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করে।
- FinSmart – ছোট ব্যবসার জন্য এআই-চালিত আর্থিক বিশ্লেষণ এবং ক্রেডিট স্কোরিং টুল প্রদান করে।
- EduVerse – শিক্ষার্থীর শেখার ধরণ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগতকৃত লার্নিং পাথ তৈরি করে।
ইভেন্টের গুরুত্ব ও প্রত্যাশিত ফলাফল
বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম দ্রুত বিকশিত হচ্ছে, তবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও প্রাথমিক স্তরে। এই সামিটের মাধ্যমে নিম্নলিখিত লক্ষ্য অর্জনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে:
- স্টার্টআপ ও বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
- বিনিয়োগকারী এবং এন্টারপ্রেনিউরদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন।
- এআই ভিত্তিক পণ্য ও সেবার বাণিজ্যিকীকরণে প্রয়োজনীয় নীতি ও নিয়মের সচেতনতা বৃদ্ধি।
- স্থানীয় ট্যালেন্টের স্কিল আপগ্রেডের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন।
কীভাবে অংশগ্রহণ করবেন?
ইভেন্টের টিকিট ও নিবন্ধন তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.aibusinesssummit.bd) প্রকাশ করা হয়েছে। অংশগ্রহণের জন্য আগাম নিবন্ধন করা উচিৎ, কারণ সীমিত সিটের কারণে দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। এছাড়া, স্টার্টআপ পিচের জন্য আগ্রহী দলগুলোকে পূর্বে আবেদন ফর্ম পূরণ করে তাদের পিচ ডেক জমা দিতে হবে।
উপসংহার
ঢাকায় ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এআই বিজনেস সামিট দেশীয় টেক কমিউনিটিকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে। শতাধিক স্টার্টআপের উদ্ভাবনী ধারণা, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিনিয়োগকারীর আগ্রহ একসঙ্গে মিলে বাংলাদেশের এআই ইন্ডাস্ট্রিকে গ্লোবাল মানদণ্ডে উন্নীত করবে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করতে পারে, আর নীতি নির্ধারকরা প্রযুক্তি-সমর্থিত অর্থনৈতিক নীতি গঠনে বাস্তব ডেটা পেতে পারে। তাই, প্রযুক্তি প্রেমী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং গবেষকদের জন্য এই সমিটটি মিস করা উচিত নয়।